আমার ভিতর ঘর করেছে লক্ষ জনায়

  • Sale
  • Regular price Rs. 700.00
Shipping calculated at checkout.


Amar Vhitar Ghar Koreche Lakkha Jonay 

সম্পাদন : মীনাক্ষী চট্টোপাধ্যায়

পৃষ্ঠা: 664

অমিতাভ দাশগুপ্ত একটি ঘটনার কথা লিখিতভাবে একবার জানিয়েছিলেন। তিনি তখন জলপাইগুড়ি কলেজে পড়াচ্ছেন। শক্তি চট্টোপাধ্যায় গিয়ে উঠেছেন তাঁর বাসায়। এক শীতের সকালে টেবিলে ঝুঁকে শক্তি লিখতে শুরু করলেন। সে-লেখা চলল সারাদিন। স্নানাহার বন্ধ। শুধু সিগারেট জ্বলছে। রাত ন-টা নাগাদ শেষ হল সেই লেখা। অমিতাভ দাশগুপ্ত ঘরে ঢুকে দেখলেন শক্তি মৃতের মতো চেয়ারে এলিয়ে আছে, ঘরময় লেখা-পাতা উড়ছে। সুদীর্ঘ একটি কবিতা, কাটাকুটি প্রায় নেই বললেই চলে। গোটা ঘটনায় এতটাই আলোড়িত হয়েছিলেন তিনি যে বহুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারেননি। হ্যা, এই হলেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। কোনটা তাঁর সঠিক বিশেষণ-‘ভূতগ্রস্ত’ না কি ‘দিব্যোন্মাদ’ ? জীবনানন্দোত্তর বাংলা কবিতার সর্বাধিক আলোচিত এক কবি। অজস্র কবিতা লিখেছেন, অজস্র কবিতা হারিয়েও ফেলেছেন। একদিনে একটানা তিরিশ-বত্রিশটি কবিতা লেখার মতো অলৌকিক কাণ্ড ঘটিয়েছেন জীবনে বহুবার। শোনা যায়, সিগারেট কিনতে বেরিয়ে একবার ভূটানে চলে গিয়েছিলেন! এ-ও শোনা যায়, মধ্যরাতে একটি ডবলডেকার বাস একবার তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল! বর্ণময় এমন কবিজীবনকে ঘিরে রোমাঞ্চকর কাহিনির শেষ নেই। ‘সে বড়ো সুখের সময় নয়, সে বড়ো আনন্দের সময় নয় / তখনই / পা থেকে মাথা পর্যন্ত টলমল করে, দেয়ালে দেয়াল, কার্নিশে কার্নিশ, ফুটপাত বদল হয় মধ্যরাতে / বাড়ি ফেরার সময়, বাড়ির ভিতর বাড়ি, পায়ের ভিতর পা, বুকের ভিতরে বুক / আর কিছু নয়।’ -লিখেছিলেন এই আপাদমস্তক কবি। বন্ধু সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত বলেছিলেন, শক্তির কবিতায় ম্যাজিক রয়েছে। আর-এক বন্ধু সমীর রায়চৌধুরী বলেছিলেন, শক্তির মধ্যে একটা ট্রাইবাল ব্যাপার ছিল, আর ট্রাইবাল বেল্টের মধ্যে অনেক ব্যাপারই কিন্তু ম্যাজিক। কবিতা ছাড়াও অন্যধরনের গল্প-উপন্যাস লিখেছিলেন কিছু। তাঁর কবিজীবন, তাঁর নাটকীয় জীবনযাপন, কবিতা-গল্প-উপন্যাস নিয়ে নানা মূল্যবান লেখায় সমৃদ্ধ হয়ে কবি-পত্নী মীনাক্ষী চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হল এই বই। বলাবাহুল্য, কবি-সাহিত্যিক-ছাত্র-অধ্যাপক-পাঠক সকলের কাছেই বইটি সংগ্রহযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রাণের বন্ধু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শক্তির মৃত্যুর পরে লিখেছিলেন ‘পাহাড়ের ভয়ঙ্কর খাদের পাশ দিয়ে হেঁটে গেছে শক্তি, যে কোনও মুহূর্তে মরণঝঁপ দিতে পারত, কিন্তু সে উঁচু দিকেই গেছে, মাঝে মাঝে পথ হারিয়ে ঘুরপাক খেয়েছে বটে, তবু নেমে আসেনি, সেইখানেই তার জয়। পেছনে ফেরার রাস্তাই সে ভুলে গিয়েছিল।’

আকার (mm):  160  (l) X  23.5  (b) X  40  (h)