RABI, RANU O ROKTOKOROBI
লেখক: রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
পৃষ্ঠা : ১৪৪
একই প্রচ্ছদের মধ্যে রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিস্মরণীয় দুটি লেখা। দুটি লেখারই কেন্দ্রে মধ্য বয়সের রবীন্দ্রনাথ, যিনি সমাজ সংসারের সমস্ত বাধা পেরিয়ে কিছুতেই পারছেন না পরমা সুন্দরী কিশোরী রাণুর অন্তরঙ্গ আহ্বান, অপ্রতিহত প্রণয়, মুক্ত আকর্ষণ ও নিবিড় বন্ধুতার কুহক থেকে পালাতে। শেষ পর্যন্ত রঞ্জন আমাদের পৌঁছে দিচ্ছেন এই অসম সম্পর্কের নিঃসঙ্গ বেদনায়, দীর্ণ দহনে, অনিবার্য অপ্রাপ্তির রক্তিম রোমান্সে। রঞ্জনের উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথের প্রতি রাণুর এই উন্মুক্ত উন্মাদন: তুমি তো নিজে বলেছ আমাকে তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে গেছে, আমি তোমার বুকের কাছে থাকতে চাই, তাহলে কেন চিঠি লেখা বন্ধ করলে? এই মেয়ে, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে গেছে, সেই মেয়ে রবীন্দ্রজীবনে না এলে কি জন্মাত রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবীর জীবন্ত যৌনতা? কিন্তু এই সহজ সরল সাহসী জিজ্ঞাসা রক্তকরবীর কোনো অ্যাকাডেমিক আলোচনায় আজও জ্বলন্ত সত্যের শরীরী ভাষায় দেখা দেয়নি। আমরা আজও লুকিয়ে রেখেছি রবীন্দ্র-রাণু সম্পর্কের লোলিটা-লক্ষণ। সিনড্রোমের বাংলা কি হতে পারে, উজ্জ্বল উপসর্গ? যদি বলেন, তবে তাই হোক। এবং রবীন্দ্রনাথের 'রক্তকরবী' সেই রক্তাক্ত সিনড্রোমের অনন্য সৃজন। এই কথাটা আজও কেউ কইলেন না। এই বইয়ের দ্বিতীয় লেখা একেবারে নতুন আঙ্গিকের এসেইস্টিক উপন্যাস, যেখানে রঞ্জন কইলেন এই নিষিদ্ধ কথা। এবং পেরেকের মাথায় মারলেন হিম্মতহাতুড়ি! প্রতিভাস সাদরে গ্রহণ করল সেই সৎ ও সাহসী উচ্চারণ।
আকার : 21(h)× 14(w)× 2(d)