PUSHPAK RATHER PILOT
লেখক: গৌরী চৌধুরী
পৃষ্ঠা : ৯৬
ভারতবর্ষের সাহিত্য প্রথা নাকি শুরু হয়েছিল গল্পকথনে। বাংলার ঘরে ঘরে এই গল্পকথন প্রথা অবিচলিত ছিলো মা, মাসিপিসি, দিদিমা, ঠাকুমাদের মুখে মুখে গল্প বলায়। নিয়ম ছিল, তাদের মুখে এক কলি করে গল্প তৈরি হবে, আর সন্তানদের মুখে এক গাল করে হবে অল্প সেবন। এমনই এক 'দিদুন' এই সংকলনের লেখিকা। ৬০ বছরের গণ্ডি পেরিয়ে, এই দিদুন শুরু করেন নিজের প্রতিষ্ঠান 'বেবিস ডে আউট'। যে সময়ে শহরের শিশুরা বাংলা অক্ষরের সঙ্গে পরিচয় হারিয়ে ফেলছে, সেই সময় এই দিদুন লেখেন 'স্বর-বর্ণ' ও 'ব্যঞ্জন বর্ণ' নামের দুই ছড়া, যা সহজেই মনে রাখা যায়। যে কচিকাঁচারা রহস্য অ্যাডভেঞ্চার গল্প শুনে শুনে খেয়ে নেয়, তাদের জন্য সৃষ্টি করেন নতুন চরিত্র ত্রিতাল সেন, যার ডাক নাম 'টিটাং'। এই টিটাং এর অ্যাডভেঞ্চার গল্পই হল 'পুষ্পক রথের পাইলট'। নাবিকের ছেলে তিতিরের নীল সাগর, লাল সাগর যাত্রায়, দিদুন গল্প শুনিয়েছেন কেন বিয়ের কার্ডএ প্রজাপতির ছবি থাকে। 'পুজাং' নামের নাটিকায়, পশু পাখিদের ল্যাজবদলের মজার গল্প ফেঁদেছেন। আর তার সন্তানসম শিশুদের হয়ে, তাদের মা-বাবাদের কাছে আবদার করে ছড়া লিখেছেন, 'মা বাবা গো, বন্ধু হবে?/ রাখবে হাতে হাত?/ আমরা গর্ব আনন্দ ঘর/ করব বাজি মাত'। এই সংকলন বাংলার ঘরে ঘরে এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়া, দিদিমা, ঠাকুমা, মা, মাসিপিসিদের মুখে মুখে অনায়াসে গল্প বলার আনন্দপ্রথার এক নিদর্শন, শ্রদ্ধার্ঘ।
আকার : 22 (h)× 15(w)×2 (d)