Kabita samagra : Vol. 1
লেখক : কালীকৃষ্ণ গুহ
পৃষ্ঠা : 328
কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতা সহজ, প্রকৃতির মতো স্বতঃস্ফূর্ত—তাতে কাব্যিকতার আলাদা আয়োজন চোখে পড়ে না। বরং তাঁর সাধনা, যা কবিতা নয়, তাকে কবিতা থেকে বর্জন করার। তাঁর কবিতার স্বচ্ছতা গভীর এক সংযমের ফল; শব্দের চেয়ে অনুচ্চারিতের দিকে, কোলাহলের চেয়ে নৈঃশব্দ্যের দিকে তাঁর মনোযোগ বেশি। “সমস্ত কোলাহল পার হয়ে নৈঃশব্দ্যের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়েছি”—১১টি কাব্যগ্রন্থের (১৯৬৭-১৯৯৭) এই দীর্ঘ পথ জুড়ে কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতায় প্রেম ও মৃত্যু পাশাপাশি শুয়ে থাকে। পুবের জানলা দিয়ে আসে আলো, শৈশব; কুয়াশার জলে ধুয়ে যায় পুরাতন ক্ষত, নদীর ছায়ায় নৌকো বয়ে যায় অন্ধকারের দিকে। জন্ম এবং মৃত্যুর মধ্যে আলো-অন্ধকারের ছড়াছড়ি; কলকাতা শহর মাথার ভিতর জড়তা আনে, আর রাত্রির কবিতায় প্রেম ও মৃত্যুর মাঝখানে ঘুমিয়ে পড়েন কবি। কোলাহল, প্রার্থনা, বিরহ, শরীর, স্মৃতি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত থেকে যায় একটি স্বর, নৈঃশব্দ্য এবং জীবনের গভীর অন্ধকার।
দৃশ্য, স্মৃতি, শরীর, প্রকৃতি ও মৃত্যুচেতনা তাঁর কবিতায় এমনভাবে এসে মেশে যে তা সহজ কিন্তু অনায়াস নয়; বরং এই সহজ হয়ে ওঠার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ কবিতা-সাধনা। কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতা সমগ্র প্রকাশিত হচ্ছে চার খণ্ডে। ১৯৬৭ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর সমস্ত কবিতা এই প্রথমবার একত্রে সংকলিত হচ্ছে এই চার খণ্ডে—এক দীর্ঘ কবিতাযাত্রার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য হয়ে। এই বই তার সূচনা।
আকার (cm) 14.5 (l) X 22 (b) X 2.7 (h)