Kabita samagra : Vol. III
লেখক : কালীকৃষ্ণ গুহ
পৃষ্ঠা : 352
কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতায় জীবনকে দেখা যাচ্ছে এক দীর্ঘ যাত্রাপথ হিসেবে আর সেই পথ ক্রমশ এগিয়ে যায় স্মৃতি, বিস্মরণ, প্রেম, বিচ্ছেদ, জন্ম ও মৃত্যুর ভিতর দিয়ে। তাঁর কবিতার মানুষ একদিকে ‘নিঃস্বের মতো’ জীবনকে গ্রহণ করে, অন্যদিকে সুন্দর, আলো, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার দিকে ফিরে তাকায়। এর আগের পর্বের কবিতায় মানুষের সমস্ত অর্জন ও উচ্চারণের প্রতি এক গভীর সংশয় দেখা গেছিল , সেখান থেকে এই উত্তরণ— ‘সমস্ত বস্তু আর জ্ঞানের ভিতরে যে / অন্তর্নিহিত ব্যবধান / সেইখানে, সেই শূন্যতায়, একদিন দাঁড়াতে হয়। / সেই দাঁড়ানোতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। / একে একে / ধানখেত / দেবদারু গাছের প্রলম্বিত ছায়া / ভেঙে-পড়া নাটমন্দির / সংগীত ভবনের আলো...’
শহরের গলি, পুরোনো বন্ধু, পিতৃস্মৃতি, কোকিলের ডাক, রেস্তোরঁা, নাটক, বাজিকর, বটপাকুড়ের দেশ—সাধারণ দৃশ্য ও স্মৃতির ভিতর দিয়েই নির্মিত হয় এক গভীর অস্তিত্ববোধ। কখনও বিস্মৃত শহরের গলিতে হাঁটতে হাঁটতে কবি ভাবেন, ‘ছকু খানসামাও একজন মহাপুরুষ ছিলেন’; মৃত্যুচেতনার ভিতরেও জীবন থেকে যায়—‘ঘুমের জন্য অপেক্ষার মধ্যে ভোর হয়’।
কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতা সমগ্র প্রকাশিত হচ্ছে চার খণ্ডে। ১৯৬৭ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর সমস্ত কবিতা এই প্রথমবার একত্রে সংকলিত হচ্ছে এই চার খণ্ডে—এক দীর্ঘ কবিতাযাত্রার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য হয়ে। চার খণ্ডের তৃতীয় খণ্ডে তাই এক দীর্ঘ কবিতাযাত্রার (২০১৩-২০১৯) এমন এক পর্ব সংকলিত হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, সময়, ইতিহাস, প্রেম, মৃত্যু ও নৈঃশব্দ্য ক্রমে বৃহত্তর মানবিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে একাকার হয়ে ওঠে।
আকার (cm) 14.5 (l) X 22 (b) X 2.9 (h)