Kabita samagra : Vol. IV
লেখক : কালীকৃষ্ণ গুহ
পৃষ্ঠা : 304
কবি কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতায় দীর্ঘ জীবন, সময়,
স্মৃতি ও মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ এক গভীর আত্মসমীক্ষার ভিতর দিয়ে ফিরে আসে। তাঁর সাম্প্রতিক কবিতাগুলিতে সেই দৃষ্টি আরও সংযত, আরও নির্মোহ; তবু ‘তবু কবিতাই লিখতে চাই’—এই অদম্য আকাঙ্ক্ষা তাঁর কবিসত্তাকে শেষ পর্যন্ত জাগিয়ে রাখে। এখানে ‘বেঁচে-থাকাই যথেষ্ট’, আবার ‘যথেষ্টের থেকেও বেশি-কিছু’ চাওয়ার দ্বন্দ্ব; আছে ‘কত অনুচ্চারিত প্রশ্ন’, ‘কত নীরব কান্না’, আর দিন ফুরিয়ে এলে ‘আমরা কিছুই বলতে পারি না / তাকিয়ে থাকি’। ২০২১-২০২৬ এই পর্বের কবিতাগুলির মানুষজন পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সীমানার বাইরে—মাছ বিক্রি করা মেয়ে, ইশকুল শিক্ষিকা, জুতো সারানো ‘বন্ধুমানুষ’, গৃহহীন বৃদ্ধ, কিংবা উলটো স্রোতে চলতে চাওয়া মানুষ। ঈশ্বরের বদলে এখানে; জল মাটি ধরিত্রী আকাশ জাগ্রত দেবতা; শব্দ নেমে আসে শূন্য থেকে; জীবন ও কবিতা গড়ে ওঠে ভাঙার মধ্য দিয়েই। ‘ভালোভাবে বাঁচতে হবে আমাদের’—এই সহজ উচ্চারণে পৌঁছে কবিতা শেষ পর্যন্ত চায় ‘সবকিছু / গাছপালার মতো সত্য আর সহজ হয়ে আসুক।’ কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতা সমগ্র প্রকাশিত হচ্ছে চার খণ্ডে। ১৯৬৭ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর সমস্ত কবিতা এই প্রথমবার একত্রে সংকলিত হচ্ছে এই চার খণ্ডে—এক দীর্ঘ কবিতাযাত্রার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য হয়ে। চার খণ্ডে বিস্তৃত কবিতা সমগ্রের এই চতুর্থ ও শেষ খণ্ড কবির একেবারে সাম্প্রতিক রচনার সংকলন—এক দীর্ঘ কবিযাত্রার অন্তিম পর্ব, অথচ যার ভিতরেই নতুন করে শুরু হতে থাকে কবিতার যাত্রা।
আকার (cm) 14.5 (l) X 22 (b) X 2.9 (h)